‘অপরিচিতা’ গদ্য অংশ।

বিকেলে হাটতে গিয়ে হঠাৎ-ই দেখা হয় আরিয়ান আর ইনায়রার। তারা দুজনই একাদশ শ্রেণীর স্টুডেন্ট। দুজনের মধ্য বাংলা প্রথম পত্রের অপরিচিতা গল্পটি নিয়ে কথাপোকথন হচ্ছিল। তাহলে চলুন দেখে আসি তাদের কী কথোপকথন হয়েছিল।

আরিয়ান:  হাই, কেমন আছ?

ইনায়রা: হাই,ভাল আছি। তুমি?

আরিয়ান: ভাল, অনেক দিন পর দেখা পড়ালেখা কেমন চলছে?

ইনায়রা:  হুমম,এইতো আলহামদুলিল্লাহ ভালোই।  আগামী সপ্তাহ থেকে ইয়ার ফাইনাল পরিক্ষা শুরু। আজ সকালে বাংলা প্রথম পত্রের অপরিচিতা গল্পটি পড়েছি।

আরিয়ান : ও আচ্ছা,ওইটা তো আমি অনেক আগেই পড়েছি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগ্রন্থ “গল্পগুচ্ছ ” এর তৃতীয় খন্ডের গ্রন্থভুক্ত হয়।

ইনায়রা: আর গল্পটি যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী এক নারীর চিত্র তুলে ধরেছেন লেখক। এবং তার নাম হল কল্যাণী।
আরিয়ান:  হুমম, এর আগে রবীদ্রনাথ ঠাকুর যত গুলো যৌতুক সম্পর্কে লিখেছেন। সেখানে দেখা গিয়েছিল কন্যা পক্ষ ও নারীর সব শেষে করুণ পরিনতি। কিন্তু এখানে তার ব্যতিক্রম।  কল্যাণীর বাবা সামাজের নিয়মের বিরুদ্ধে গিয়ে যৌতুক নামের ঘৃণ্য প্রথা প্রতিরোধ করেন।

ইনায়রা: আর কল্যাণীর সাথে যার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল তার নাম অনুপম। সে তার মায়ের অনুগত একজন সন্তান। এবং তার পরিবারের অভিভাবক হলেন তার মামা (যার উপর অনুপম এবং তার মা কখনো কোন কথা বলতে পারেন না)। তিনি যৌতুক (সর্ণ) নিয়ে বিয়েতে বাড়াবাড়ি করেছিলেন। এইজন্য শম্ভুনাথ সেন (কল্যাণীর বাবা)বিয়েটা ভেঙ্গে দেন।

আরিয়ান : গল্পটির শেষ দিকটাকি তুমি লক্ষ করেছ? অনুপম  জানতে পারে যে বিয়ে ভাঙ্গার পর কল্যাণী আর বিয়ে করবে না বলে সিদ্ধান্ত  নিয়েছে এবং দেশব্রতীর পণ করেছে। কিন্তু  অনুপম আশা ছাড়েনি। সে কল্যাণীকে নানাভাবে  কনভেন্স করার চেষ্টা চালাতে থাকে। তার বিশ্বাস ছিল সে একসময় কল্যাণীর মনে জায়গা পাবে। কিন্তু গল্পের শেষে দেখা যায় তা আর হয়নি। কারণ কল্যাণী  তার সিদ্ধান্তে  অটল ছিল শেষ পর্যন্ত। কল্যাণী অনুপমের কাছে চিরকালের জন্য অপরিচিতা থেকে যায়।

ইনায়রা: তবে গল্পটির কয়েকটি শব্দ  আমি তেমন বুঝিনি।

আরিয়ান : তোমার উচিত শব্দার্থ  গুলো গল্পটা পড়ার আগে একবার শব্দ অর্থগুলো পড়ে নেওয়া। কারণ কয়েকটা অন্যরকম শব্দ আছে সেগুলো শব্দার্থ  না বুঝতে পারলে গল্পটাই বুঝা যাবে না।

যেমন :
প্রজাপতি – জীবের স্রষ্টা। ব্রহ্মা। ইনি বিয়ের দেবতা।
উমেদারি – প্রার্থনা।
ধুয়া – গানের যে অংশে দোহাররা বারবার পরিবেশন করে।
কষ্টিপাথর – যে পাথরে ঘষে সোনার খাঁটিত্ব পরীক্ষা করা হয়।
এয়ারিং – কানের দুল।

ইনায়রা: আচ্ছা। এবার থেকে আমি পড়ার আগে শব্দ অর্থগুলো একবার দেখে নিবো।

পড়তে ক্লিক করুন এখানে….

আরিয়ান : আর গল্পের ভিতরে কিছু লাইন বা বাক্য চিন্হিত করতে পারো। যেমনঃ-
★ আমি অন্নপুর্ণার কোলে গজাননের ছোটো ভাইটি।
★ ঠাট্টার সম্পর্কটাকে স্থায়ী  করিবার ইচ্ছা  আমার নাই।
★ কিন্তু, মেয়ের বিয়ে হইবে না এই ভয় যার মনে নাই তার শাস্তির উপায় কি।
লাইন গুলোর ব্যাখা জানলে, তোমার পরিক্ষায় গল্পটি থেকে যে ধরনের সৃজনশীল আসুক না কেন উত্তর করতে পারবে।

ইনায়রা: হুমম বুঝেছি। তাহলে আজ আসি পরে কথা হবে। ধন্যবাদ, তোমাকে।
আরিয়ান: ঠিক আছে। তোমাকেও ধন্যবাদ।

তাদের কথোপকথন  শুনে আমি ১০০% বুঝলাম না। তাই আমার উচিত অপরিচিতা গল্পটি  ভালো করে একবার পড়া এবং গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ও লাইন গুলো চিহ্নিত  করে খাতায় লিখা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *