চাষার দুক্ষু – গদ্যাংশ রিভিশন

মনটা ভাল ছিলনা তাই সকাল সকাল  হাটতে বের হয় আহান। তখন হঠাৎ দেখা হয় তার স্কুল ফ্রেন্ড আদরির সাথে। এখন তারা দ্বাদশ শ্রেণিতে  পড়ে তবে ভিন্ন কলেজে। তারা কথা বলছিল বাংলা প্রথম পত্রের গদ্যাংশের  অন্তর্ভুক্ত “চাষার দুক্ষু” নিয়ে। চলুন তাহলে দেখে আসি তাদের  কথোপকথন।




আদরি: হাই, কেমন আছ?
আহান : ভাল, তুমি?
আদরি: ভাল, অনেক দিন পর দেখা…
আহান: হুমম, প্রায় দুই বছর পর দেখা হল। তোমার পড়া লেখার কি অবস্থা?
আদরি: হুমম, ভাল। এইতো গতকালকে বাংলা প্রথম পত্রের “চাষার দুক্ষু” প্রবন্ধটি পড়েছি।
আহান: ও আচ্ছা,ওইটাতো আমি অনেক আগেই পড়েছি। বেগম রোকেয়ার “রোকেয়া রচনাবলি”থেকে চাষার দুক্ষু প্রবন্ধটি নেওয়া হয়েছে। চাষাদের কষ্ট অভাবের জীবন সম্পর্কে লিখা হয়েছে ” চাষার দুক্ষু” প্রবন্ধটি।


আদরি: হুমম, ঠিক বলেছ। “চাষার দুক্ষু” প্রবন্ধের শুরুতে লেখিকা দেড়শত বছর পূর্বের অসভ্য বর্বর ভারতবাসীর কথা উল্লেখ করেছে। নগরগুলো উন্নত হয়েছে সভ্যতা বিকাশের সাথে সাথে কিন্তু কিছু নগরের উন্নতি সম্পূর্ণ  দেশকে বদলিয়ে দেয়না। জুট মিলে যারা কাজ করে তাদের বেতন ৫০০-৭০০ টাকা। কিন্তু যিনি এই  কাচাঁমাল উৎপাদনের করে তার কোন মূল্য নেই। তার অন্নের অভাব বস্ত্রের অভাব। অথচ চাষা হল সমাজের মেরুদণ্ড।

বিড়াল গল্পটি রিভিশন দিতে ক্লিক করুন…


আহান: কৃষকের এই অবস্থার জন্য অনেকে ইউরোপীয় বিপ্লবকে দায়ী মনে করলেও লেখিকা এর বিরুদ্ধীতা করেছেন। তিনি বলেছেন এই বিপ্লবের অনেক আগের থেকে কৃষকের এই দূরাবস্থা। তাদের অবস্থা এমন ছিল যে একটা খাবার জোগাড়  করলে অন্যটা ফুরিয়ে যেত।


আদরি: হুমম,যখন টাকায় ২৫ কেজি চাল পাওয়া যেত তখন রংপুরের মানুষরা চাল কিনতে না পেরে লাউ, কুমড়া, শাক এইগুলো খেয়ে থাকত।
আহান: পঁচিশ, ত্রিশ বছর আগে কৃষকদের বউ চরকায় সুতা কাটিয়ে বাড়ির সকলের জন্য কাপড় তৈরি করত। আর তখন কৃষকের বউয়েরা অন্ন বস্ত্রের সমস্যা দূর করে হাসিখুশি জীবন-যাপন করতো। তখনও তারা অসভ্য ও বর্বর ছিল!





আদরি: যুগের অগ্রগতির সাথে সাথে সভ্যতার ও অগ্রগতি হয়েছে। তারা এখন সভ্য, আর সভ্য হওয়ার সাথে সাথে তারা আরামপ্রিয় হয়ে ওঠে। কৃষকের বউ আর চরকায় কাটতে চায়না। তারা পায়ে হেঁটে কোথাও যেতে চায়না। আর তাদের এই বিলাসিতাগুলো পূরণ করতে গিয়ে কৃষক তার জমিটুকু পর্যন্ত  হারিয়ে ফেলে। আর গ্রামীণ কুটির শিল্পের বিপর্যয় ও কৃষকদের দারিদ্রের কারণ।


আহান: প্রবন্ধের শেষে লেখিকা উপদেশ দিয়েছেন যে, কুটির শিল্পের অর্থাৎ দেশীয় শিল্পের উন্নতি করতে। এবং গ্রামে গ্রামে পাঠশালা নির্মাণ এবং চরকায় সুতা কাটিয়ে কাপড় তৈরি করতে পরামর্শ দেন। তাহলেই চাষার দুঃক্ষের অবসান হইবে।

আদরি: তবে প্রবন্ধটি বুঝতে হলে। শব্দার্থ গুলো ভালোভাবে পড়তে হবে। কেননা এখানে অনেক গুলো শব্দ আছে যার সঠিক অর্থ আমরা জানি না।

যেমন-
অভ্রভেদী =আকাশচুম্বী।
মহীতে = পৃথিবীতে।
টোকা = সুতা পাকাবার যন্ত্র।


আহান: হুমম, আর কিছু গুরুত্বপূর্ণ লাইন। যেমন:
★শিরে দিয়ে বাঁকা তাজ ঢেকে রাখে টাক।
★সভ্যতার সহিত দারিদ্র্যতা বৃদ্ধি  হইবার কারণ কি?
★ধান্য তার বসুন্ধরা যার।
★এই রূপ দুইটি পয়সা চারি পয়সা করিয়া ধীরে ধীরে সর্বস্বহারা হইয়া পড়িতেছে।
এগুলো চিহ্নিত করে ব্যাখ্যা পড়তে হবে।
আদরি: ঠিক আছে,ধন্যবাদ তোমাকে।
আহান: তোমাকেও ধন্যবাদ।


আমরা পর্বে পাঠ বই থেকে গল্পটা পড়ে ছিলাম। তারপরও আহান ও আদরির কথাপোকথন থেকে গল্পটা সম্পর্কে আরও একবার রিভিশন দেওয়া গেল। আবার আমি গল্পটার উপর চলো পাল্টাই ওয়েব সাইটে পরিক্ষা দিবো। তুমরা আমার সাথে পরিক্ষা দিবে তো?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *