বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ

হ্যালো, ওয়েলকাম টু ‘চলো পাল্টাই’ওয়েব সাইট। কেমন আছো সবাই? আমি ভালো আছি খুব খুব ভালো। কি করছো এখন তোমরা? বলতে হবে না আমি জানি! তোমরা এখন ‘চলো পাল্টাই’ ওয়েব সাইটে বাংলা ১ম পত্রের রিভিশন দিচ্ছো। কি ঠিক বললাম তো! কি চলে যাচ্ছো? না, যেও না আর বকবক করব না সত্যি বলছি এই কান ধরলাম! হুমম, কান ধরেছি না ছাই! চলো আজকে আমরা সুন্দর একটি কবিতা ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ এর রিভিশন দিবো।

বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কাব্যটি লিখেছেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। কাব্যটির মূল চরিত্রে মেঘনাদকে দেখা যায়। এবং মূল খল চরিত্রে দেখা যায় মেঘনাদের চাচা বিভীষণকে। মূলত কবিতাটিতে মেঘনাদ ও তার চাচা বিভীষণের কথাপোকথন প্রকাশ পেয়েছে।

মেঘনাদের পিতা রাবণ তিনি স্বর্ণলঙ্কার রাজা। তাঁর রাজ্যে শত্রু রামচন্দ্র দৈব শক্তিতে আক্রমণ করলে তিনি অসহায় হয়ে পড়েন। এদিকে রাবণের ভাই কুম্ভকর্ণ ও পুত্র বীরবাহুর যুদ্ধে মৃত্যু হয়। এ অবস্থায় মেঘনাদের পিতা আরও অসহায় হয়ে পড়ে। এজন্য তিনি তার পুত্র মেঘনাদকে পরবর্তী দিবসে মহাযুদ্ধে সেনাপতির দায়িত্ব পালন করার জন্য আহ্বান করে।

মেঘনাদ পিতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করার আগে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে ইষ্টদেবতার পূজা করতে বসে। এমন সময় বিপরীত পক্ষের শত্রু লক্ষণ শত শত প্রহরীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে প্রবেশ করে। লক্ষণ মায়ার দেবি ও ঘরের শত্রু বিভীষণের সহযোগীতায় শত শত প্রহরীর চোখ ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়।

মেঘনাদ মুহূর্তের জন্য হতভম্ভ হয়ে যায় লক্ষণের অনুপ্রবেশ যে মায়ার বলে হয়েছে তা বুঝতে। এর মধ্যে লক্ষণ তলোয়ারের খাপ থেকে তলোয়ার বের করে। অস্ত্রহীন মেঘনাদ যুদ্ধসাজ নেওয়ার জন্য লক্ষণের কাছে সময় চাই। কিন্তু, লক্ষণ সময় না দিয়ে মেঘনাদকে আঘাত করে। এমন সময় মেঘনাদের দৃষ্টি প্রবেশ দরজার উপরে গিয়ে পড়ে। মেঘনাদের প্রবেশ দরজার উপর দৃষ্টি পড়তেই তাঁর পিতার সমতুল্য চাচা বিভীষণকে দেখতে পাই। তখন মেঘনাদের চোখের সামনে সব পরিস্কার হয়ে যায়।

আর এই সময় কবিতায় মেঘনাদ ও বিভীষণের কথাপোকথন কবি বর্ণনা করেছে। মেঘনাদ তার চাচা বিভীষণকে মনের দুঃক্ষে কিছু প্রশ্নের উত্তর চাই। কিভাবে সে নিজের আপন ভাইয়ের পুত্রের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করলো? চলো আমরা নিচে কবিতাটি পড়তে পড়তে দেখে নিই কি কথাপোকথন হয়েছিলো। কিন্তু তার আগে আমরা ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কাব্যের কিছু শব্দের অর্থ জেনে নিবো।

বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কাব্যটি আমি যেদিন প্রথম পড়েছিলাম তক্ষণ মনে হয়েছিলো, এটা আবার কোন ভাষার কবিতা ইংরেজি? না কি অন্য কোন ভাষার! এটা আমার দ্বারা হবে না, পরীহ্মায় পড়লে আমি এখান থেকে লিখবো না, এমন কত কথা এই কবিতার উপর মাঁথার ভিতর গিজগিজ করছিলো। কিন্তু, যখন শব্দের অর্থ বুঝে কবিতাটি পড়ি তক্ষণ মনে হলো না, কবিতাটি সত্যিই হৃদয় স্পর্শ করে যায় এখান থেকে প্রশ্ন পড়লে একশোতে একশো। তো চলো দেখে নিই কিছু কাব্যের ভাষার শব্দের অর্থ।

 

অরিন্দম – অরি অর্থ শত্রু, -ন্দম অর্থ দমন করেরে যে।
বিষাদে – দুঃখে।

পশিল – প্রবেশ করল।

নিকষা – রাবণের মাতার নাম।

রক্ষপুরে – রাক্ষসদের পুরিতে।

ভ্রাতৃপুত্র – ভাইয়ের পুত্র।

তস্কারে – চোরকে।

চণ্ডাল – হিন্দু সম্প্রদায়ের নিচু জাত।

গঞ্জি – তিরস্কার করি।

তাত – চাচা।

পিতৃতুল্য – পিতার সমতুল্য।

শমভবনে – যমালয়ে।

ভঞ্জিব – মুছে ফেলবো।

আহাবে – যুদ্ধ দ্বারা।

বিধুরে – চাঁদকে।

বিধি – সৃষ্টিকর্তা।

স্থাণুর – আকাশে।

ললাটে – কপালে।

শশী – চাঁদ।

সরোবরে – পুকুরে।

কেলি – খেলা।

পঙ্কজ-কাননে – পদ্মফুলের বাগানে।

মৃগেন্দ্র – পশুরাজ সিংহ।

মজাইলা – বিপদগ্রস্ত করলে।

চলো এবার পড়তে পড়তে জানবো চাচা বিভীষণের সংঙ্গে মেঘনাদের কি কথা হয়েছিলো।



বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ

লেখক: মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

“এতক্ষণে”– অরিন্দম কহিলা বিষাদে,

এই লাইনটিতে বলা হয়েছে, “এতহ্মণে মেঘনাদ বললো মনের দুঃখে,”

জানিনু কেমনে আসি লক্ষণ পশিল

রক্ষপুরে! এই বাক্যটিতে বলা হচ্ছে, “জানি না কিভাবে লহ্মণ রহ্মসদের পুরিতে প্রবেশ করলো!” হায়, তাত, উচিত কি তব

এ কাজ, নিকষা সতী তোমার জননী! “হায়, চাচা, উচিত কি তোমার এই কাজ করা, নিকষা তোমার সতী মা!”

সহোদর রক্ষঃশ্রেষ্ঠ! “ভাই তোমার রাহ্মসদের রাজা!” শূলিশম্ভুনিভ

কুম্ভকর্ণ? এখানে কুম্ভকর্ণ রাবণের মেজো ভাই। শূলিশম্ভুনিভ মানে, যার হাতে মহাদেবের মতো অগ্রভাগ বিশিষ্ট অস্ত্র? ভ্রাতৃপুত্র বাসববিজয়ী! “ভাইয়ের পুত্র মেঘনাদ বাসবকে জয় করেছে।”

নিজগৃহপথ, তাত, দেখাও তস্করে? এখানে মেঘনাদ বিভীষণকে আরও বলছে, “নিজের ঘরে আসার পথ, চাচা, দেখাও চোরকে?”

চণ্ডালে বসাও আনি রাজার আলয়ে? ‘চণ্ডাল’ – হিন্দু নিচু সম্প্রদায় আজ রাজা রাবণের বাড়িতে ঢুকেছে?”

কিন্তু নাহি গঞ্জি তোমা, গুরু জন তুমি

পিতৃতুল্য। “তবে তোমার তিরস্কার করি না, তুমি পিতার সমতুল্য গুরুজন।  ছাড় দ্বার, যাব অস্ত্রাগারে, ছেড়ে দাও দরজা, যাব অস্ত্র রাখা কহ্মে, 

পাঠাইব রামানুজে শমন-ভবনে, লহ্মণকে যমালয়ে পাঠাবো,

লঙ্কার কলঙ্ক আজি ভঞ্জিব আহবে।” রামপুরিতে লহ্মণের প্রবেশ করাকে মেঘনাদ ‘লঙ্কার কলঙ্ক’ বলেছে। এই কলঙ্ক আজ যুদ্ধ করে দূর করবে।

উত্তরিলা বিভীষণ, “বৃথা এ সাধনা,

ধীমান্! উত্তর দিলো বিভীষণ, বৃথা এ সাধনা, বিজ্ঞ/জ্ঞানী!রাঘবদাস আমি; কী প্রকারে

তাঁহার বিপক্ষ কাজ করিব, রক্ষিতে

অনুরোধ?” রাম বংশের সন্তান রঘুর দাস আমি; কিভাবে তাঁর বিপহ্মে কাজ করবো, তোমার অনুরোধ রাখতে? উত্তরিলা কাতরে রাবণি;- মেঘনাদ কাতর কণ্ঠে উত্তর দিলো;-

“হে পিতৃব্য, তব বাক্যে ইচ্ছি মরিবারে! হে পিতার সমতুল্য, তোমার কথায় আমার মরতে ইচ্ছা করছে!

রাঘবের দাস তুমি? রঘুর দাস তুমি? কেমনে ও মুখে

আনিলে এ কথা, তাত, কহ তা দাসেরে! কিভাবে ও (রাঘবের দাস) কথা মুখে বললে, চাচা,  বলো তা আমাকে (মেঘনা নিজেকে দাস বলে অ্যাখায়িত করেছে)!স্থাপিলা বিধুরে বিধি স্থাণুর ললাটে; সৃষ্টিকর্তা চাঁদকে আকাশের কপালে স্থাপন করেছে;

পড়ি কি ভূতলে শশী যান গড়াগড়ি

ধূলায়? চাঁদ কি কখনো মাটিতে ধূলায় গড়াগড়ি যায়?হে রক্ষোরথি, ভুলিলে কেমনে

কে তুমি? হে রাক্ষসকুলের বীর কিভাবে তুমি ভুলে গেলে তোমার পরিচয়? জনম তব কোন মহাকুলে? জন্ম গ্রহণ করেছো তুমি কোন উচ্চ বংশে?

কে বা সে অধম রাম? কে এই রাম? স্বচ্ছ সরোবরে

করে কেলি রাজহংস পঙ্কজ-কাননে; স্বচ্ছ পানির পুকুরে পদ্ম ফুলের বাগানে রাজহংস/রাজহাঁস খেলা করে;

যায় কি সে কভু, প্রভু, পঙ্কিল সলিলে,

শৈবালদলের ধাম? সে কি কখনো যায়, সৃষ্টিকর্তা, কাঁদাযুক্ত শেওলাযুকক্ত পুকুরে?

মৃগেন্দ্র কেশরী,

কবে, হে বীরকেশরী, সম্ভাষে শৃগালে

মিত্রভাবে? কেশরযুক্ত বনের রাজা সিংহ কি কখনো বন্ধু ভেবে কাছে ডাকে?অজ্ঞ দাস, বিজ্ঞতম তুমি,

অবিদিত নহে কিছু তোমার চরণে। আমি তো মূর্খ, তুমি তো অনেক জ্ঞানী তোমার তো কিছু অজানা নয়।

ক্ষুদ্রমতি নর, শূর, লক্ষণ; নহিলে

অস্ত্রহীন যোধে কি সে সম্বোধে সংগ্রামে? লক্ষণ ছোট শক্তিহীন যোদ্ধা, নাহলে কি অস্ত্রহীনের সাথে যুদ্ধ করতে চাই?

কহ, মহারথী, এ কি মহারথীপ্রথা? বলো, মহাবীর, এটা কি মহাবীরের কাজ?

নাহি শিশু লঙ্কাপুরে, শুনি না হাসিবে

এ কথা! এমন কোনো শিশু নেই লঙ্কাপুরে, যে এই কথা শুনে হাসবে না! 

ছাড়হ পথ; আসিব ফিরিয়া

এখনি! ছেড়ে দাও পথ; এখনি ফিরে আসবো!দেখিব আজি, কোন্‌ দেববলে,

বিমুখে সমরে মোরে সৌমিত্রি কুমতি! দেখবো আজ, কোন দৈবশক্তির জোরে, সুমিত্রার সন্তান আমাকে বাধা দেয়! 

দেব-দৈত্য-নর-রণে, স্বচক্ষে দেখেছ,

রক্ষঃশ্রেষ্ঠ, পরাক্রম দাসের! দেততা, দৈত্যের, নরের যুদ্ধে শক্তি তুমি দেখেছো! কী দেখি

ডরিবে এ দাস হেন দুর্বল মানবে? কি দেখে ভয় পাবো আমি দুর্বল মানুষকে (লাক্ষণ)?

নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে প্রগল্‌ভে পশিল

দম্ভী; নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে নির্ভীক চিত্তে প্রবেশ করলো দাস্তিক; আজ্ঞা কর দাসের! হুকুম করো এ দাসকে! শাস্তি নরাধমে। নরাধমের শাস্তি দেই।

তব জন্মপুরে, তাত, পদার্পন করে

বনবাসী! তোমার জন্ম ভূমিতে, চাচা, এক বানবাসীর পা পড়েছে! হে বিধাতঃ, নন্দন-কাননে

ভ্রমে দুরাচার দৈত্য? হে সৃষ্টুকর্তা তোমার স্বর্গীয় বাগানে এক দুর দেশের দৈত্য ভ্রমণ করছে? প্রফুল্ল কমলে

কীটবাস? ফুটন্ত ফুলে একটি বিষাক্ত পোকা ডুকেছে? কহ তাত, সহিব কেমনে

হেন অপমান আমি,- ভ্রাতৃ-পুত্র তব? বলো চাচা, কিভাবে সহ্য করবো আমি অপমান তোমার ভাইয়ের পত্র হয়ে?

তুমিও, হে রক্ষোমণি, সহিছ কেমনে?” তুমিও তো রাক্ষসকুলের মনি, কীভাবে সহ্য করছো?

মহামন্ত্র-বলে যথা নম্রশিরঃ ফণী, প্রবল মন্ত্রের বলে মাথা নিচু করে,

মলিনবদন লাজে, মলিন মুখে লজ্জায়, উত্তরিলা রথী

রাবণ-অনুজ, উত্তর দিল রাবণের ছোট ভাই বিভীষণ, লক্ষি রাবণ-আত্মজে; রাবণের পুত্রকে (মেঘনাদ) লক্ষ করে;

“নহি দোষী আমি, বৎস; বৃথা ভর্ৎস মোরে

তুমি! আমার কোনো দোষ নেই বৃথা তুমি আমাকে দোষারোপ করছো! নিজ কর্ম-দোষে, হায়, মজাইলা

এ কনক-লঙ্কা রাজা, মজিলা আপনি! নিজের কাজের কারণে, হায়, বিপাদ গ্রস্থ হলে এ স্বর্গ লঙ্কার রাজা (এখানে মেঘনাদকে বলা হয়েছে), বিপাদগ্রস্থ হলে আপনি!

বিরত সতত পাপে দেবকুল; সব সময় দেবকুল পাপ মুক্ত/দূরে থাকে; এবে

পাপপূর্ণ লঙ্কাপুরী; তবে লঙ্কাপুরী পাপে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে; প্রলয়ে যেমতে

বসুধা, ডুবিছে লঙ্কা এ কালসলিলে! ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে যেভাবে পৃথিবী, ডুবছে লক্ষণ যেন এক অশুভ পানিতে!

রাঘবের পদাশ্রয়ে রক্ষার্থে আশ্রয়ী

তেঁই আমি। রাঘবের পায়ের নিচে আশ্রয় নিয়েছি সেজন্য আমি। পরদোষে কে চাহে মজিতে?” পরের কারণে (দোষে) কি চাই বিপদে পড়তে?”

রুষিলা বাসবত্রাস। রাগান্বিত হলো বাসব ভয় সৃষ্টিকারী মেঘনাদ।

গম্ভীরে যেমতি

নিশীথে অম্বরে মন্দ্রে জীমূতেন্দ্র কোপি,

কহিলা বীরেন্দ্র বলী,-“ধর্মপথগামী,

হে রাক্ষসরাজানুজ, বিখ্যাত জগতে

তুমি; – কোন্‌ ধর্ম মতে, কহ দাসে, শুনি,

জ্ঞাতিত্ব, ভ্রাতৃত্ব, জাতি,- এ সকলে দিল

জলাঞ্জলি? মেঘনাদ গম্ভীরভাবে রাতের আধারে আকাশে মেঘের আওয়াজের মত গর্জে উঠে বললো, “ধর্মের পথে তুমি রাক্ষসরাজার+অনুজ, কোন ধর্মের মতে, বলো দাসকে (মেঘনাদকে) শুনতে চাই নিজের সম্পর্ক, কুল, জাতি ত্যাগ করলে? শাস্ত্রে বলে, গুণবান্ যদি

পরজন, গুণহীন স্বজনে, তথাপি

নির্গুণ স্বজন শ্রেয়ঃ, পরঃ পরঃ সদা! পরের মানুষ কখনো স্বজন হয় না, তবে গুণবান পরের মানুষের চেয়ে আপন মানুষ ভালো, পর সব সময় পরই হয়!

এ শিক্ষা, হে রক্ষোবর, কোথায় শিখিলে? রাহ্মসকুলের কর্তা আত্মীয় ত্যাগ করার শিক্ষা কোথায় শিখলে?

কিন্তু বৃথা গঞ্জি তোমা! কিন্তু বৃথায় তোমার তিরস্কার করছি! হেন সহবাসে,

হে পিতৃব্য, বর্বরতা কেন না শিখিবে? যাদের সাথে তুমি বসবাস করছো, হে পিতার সমতুল্য বর্বরতা কেন শিখবে না?

গতি যার নীচ সহ, নীচ সে দুর্মতি।” নিচু মানুষের সাথে যে বসবাস করে, তার মন তো নিচু প্রকৃতিই হবে।



কবিতাটি পড়ে বার বার মনে পড়ছে নবাব সিরাউদ্দৌলার কাহিনীর মির-জাফর ও নবাব সিরাজউদ্দৌলার কথা। এই দুই জায়গায় দেখা গিয়েছে ঘরের শত্রুর বিশ্বাস ঘাতকতা। আচ্ছা, কেমন লাগলো বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতা? আমার তো একেবারে হৃদয় স্পর্শ করে গিয়াছে। আমার এখন বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কাব্যের লেখকের সম্পর্কে জানতে ইচ্ছা করছে! তোমাদের লেখক সম্পর্কে জানতে ইচ্ছা করছে না? চলো তাহলে জেনে নিই লেখক সম্পর্কে কিছু তথ্য।

 

আরও পড়ুন বাংলা ১ম পত্র ‘নেকলেস’ গল্প।

আরও পড়ুন সমাস চেনার সহজ উপায়।

 

★ মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫এ যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

★ তাঁর পিতার নাম রাজনারায়ণ দত্ত।

★ ও মাতার নাম জাহুবী দেবী।

★ তাঁর প্রবর্তিত ছন্দকে বলা হয় ‘অমিত্রাহ্মর ছন্দ’।

★ তিনি বাংলায় সনেটের প্রবর্তক।

★ মাইকেল মধুসূদন দত্ত  ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ২৯এ জুন কলকাতায় জন্ম গ্রহণ করেন।

‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কাব্যে আরও ভালো প্রস্তুতি নিতে তোমার পাঠ্য বইয়ে কাব্যটি একবার পড়ো।

৩ thoughts on “বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *