‘বিড়াল’ গদ্য অংশ।

সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে আহনাফের আমরিনের সাথে দেখা। আমরিন ও আহনাফ ক্লাসমেট, দুই জন দ্বাদশ শ্রেণীর স্টুডেন্ট। তারা বাংলা প্রথম পত্রে বিড়াল গদ্যটি নিয়ে কথা বলছিল। চলুন দেখে আসি তাদের মধ্য কি কথা হয়েছিল।

আহনাফ: হাই, আমরিন। শুভ সকাল।

আমরিন: হাই….আহনাফ! তোমাকেও শুভ সকাল।

আহনাফ: ধন্যবাদ। আচ্ছা, তুমি কি বিড়াল গদ্যটি পড়েছ?

আমরিন: হ্যা, বম্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর লেখা বিড়াল গল্পটি আমি গত সপ্তাহে শেষ করেছিলাম।

আহনাফ: ও আচ্ছা, আমি গতকাল পড়ছিলাম। এটি বম্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রসাত্মক ও ব্যঙ্গধর্মী ‘কমলাকান্তের দপ্তর’ থেকে নেওয়া হয়েছে।

আমরিন: হ্যা, তিন অংশে বিভক্ত এই গ্রন্থটির মধ্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ‘বিড়াল’ রচনাটি। তবে তোমাকে গদ্যটি ভালোভাবে বুঝতে আগে শব্দ অর্থ গুলো একবার দেখে নিতে হবে।

আহনাফ: তুমি ঠিক বলেছ। আমি তো প্রথমে কিছু শব্দের ভুল অর্থ করায় গল্পের মানেটাই বুঝতে পারছিলাম না…..। যেমন দেখ:
চারপায় – টুল বা চৌকি,
প্রেতবৎ – প্রেতের মত,
মার্জার – বিড়াল,
প্রকটিত – তীব্রভাবে প্রকাশিত,
……………।

 

আমরিন: আসলেই গদ্যটার ভিতরে একাধিক শব্দের অর্থ জানার বাহিরে ছিলো। তবে গদ্যটি অসাধারণ। গদ্যটিতে লেখকের কল্পনার বহিঃপ্রকাশ হতে দেখা যায়। কমলাকান্ত নেশায় বু্ঁদ হয়ে ওয়াটারলু যুদ্ধ নিয়ে ভাবছিলো। যে তিনি যদি নেপোলিয়ন হতো তাহলে, ওয়াটারলু জিততে পারিত কি না। এমন সময় প্রসন্ন গোয়ালিনী তার জন্য গরুর দুধ রেখে গিয়েছিল। তা একটি ছোট বিড়াল খেয়ে ‘মেও’ শব্দ করে ছিল।

আহনাফ: তারপর বিড়ালকে মারতে কমলাকান্ত একটি ভাঙ্গা লাঠি নিয়ে উঠে দাঁড়ায়। তখন, কমলাকান্তের বিড়ালের সাথে কাল্পনিক কথাপোকথন হয়। যেটা গদ্যটিতে একটি অন্য মাত্রা সৃষ্টি করেছে বলে আমি মনে করি।

আমরিন: হ্যা, এটা ঠিক। তবে, এই কাল্পনিক কথাপোকথন দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রথম অংশ নিখাদ হাস্যরসাত্মক এবং পরের অংশ গূঢ়ার্থে সন্নিহিত।

আহনাফ: তবে, তুমি গদ্যের শেষটা লক্ষ করো। কমলাকান্ত বিড়ালটির কাছে যুক্তিতে না পেরে তার মনে পড়ে আত্নরক্ষামূলক শ্লেষাত্মক বাণী- “বিজ্ঞ লোকোর মত এই যে, যখন বিচারে পরাস্ত হইবে, তখন গম্ভীরভাবে উপদেচ প্রদান করিবে”।

আমরিন: হুমম, কমলাকান্ত বিড়ালের ‘সোশিয়ালিস্টিক’, ‘সুবিচারক’, ‘সুতার্কিক ‘ কথা শুনে বিস্মিত হয়েছিলো।

আহনাফ : ঘণ্টা পড়ে গেল। ক্লাশ শুরু হয়ে যাবে এখনি চলো ক্লাশের দিকে যায়।

পড়তে ক্লিক করুন এখানে…

আমরিন: হ্যা, চলো। বিড়াল গদ্যটি নিয়ে কথা বলে অনেক ভালো লাগলো। গদ্যটি সম্পর্কে আরো পরিস্কার ধারণা লাভ করতে পারলাম।

আহনাফ: (ক্লাশ রুমের দিকে হাটতে হাটতে) হুমম, তবে গদ্য সম্পর্কে ১০০% প্রস্তুতি নিতে গল্পটা পড়ে কিছু বাক্য চিন্হিত করতে হবে। যেমন: সমাজের ধনবৃদ্ধি অর্থ ধনীর ধনবৃদ্ধি, তোমার কথাগুলো ভারি সোশিয়ালিস্টিক….

আমরিন : হ্যা, সত্যি তো এই বাক্যগুলো খুঁজে বেরর করে খাতায় লিখে প্রস্তুতি……

আহনাফ ও আমরিন ক্লাশ রুমে প্রবেশ করলো। তবে, তাদের কথাপোকথন শুনে আমি এখনো তেমন গল্পটা সম্পর্কে বুঝতে পারিনি। এজন্য আমাকে আগে আমার পাঠ্য বই থেকে গল্পটা পড়ে ফেলতে হবে। এবং সে সাথে কিছু বাক্য চিন্হিত করে খাতায় লিখতে হবে।

১ thought on “‘বিড়াল’ গদ্য অংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *