হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (র) থেকে শিক্ষা

হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (র) থেকে শিক্ষা

হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (র) আমরা সবাই কম বেশি তার সম্পর্কে জানি। অনেকে চেষ্টা করি তাঁর জীবনী অনুসরণ করার!না, অনেকে নয় হাতে গোনা কিছু সংখ্যক মানুষ।

চলো জেনে নিই হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (র) ও তার মায়ের নিয়ে কয়েকটি ঘটনা।

হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (র) যখন তার মাতার গর্ভে ছিলেন। তখন তার মা যদি সন্দেহজনক কোনো খাবার খেত, তখনই অনুভব করত তার গর্ভের সন্তানটি অনবরত কাঁপছে। যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁর মা মুখে আঙ্গুল দিয়ে বমি না করতো ততক্ষণ তার গর্ভের সন্তান কাঁপতো।

এভাবেই পৃথিবীতে আগমন ঘটে মুসলিম মনীষী হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (র) এর। তাঁর পিতা একজন ধর্মনিষ্ঠা মুসলিম হলেও তাঁর দাদা ছিলেন মূর্তিপূজক। আর তার মাতা ছিলেন একজন মুসলিম আলোকময়ী নারী।

একদিন শীতের রাতে তাঁর মা তাকে বললেন, আমাকে এক গ্লাস পানি দাও তো। বড় পিপাসা পেয়েছে। তিনি তার পানি আনতে গিয়ে দেখলেন ঘরে কোথাও পানি নেই। এখন কি করবেন তিনি, ছুটলেন নদী থেকে পানি আনতে। পানি নিয়ে ঘরে ফিরে এসে দেখলেন মা ঘুমিয়ে পড়েছে। এখন তিনি কি করবেন ঘুমন্ত মাকে ডাকবেন কি?

না, তিনি তার ঘুমন্ত মাকে ডাকলেন না সারা রাত দাড়িয়ে থাকলেন মায়ের পাশে এক গ্লাস পানি নিয়ে। কেননা ঘুম থেকে মাকে জাগানো ঠিক হবে না।

শীতের রাতে কনকনে ঠান্ডায় দাড়িয়ে রইলেন সারা রাত। রাত শেষ হলো মা চোখ মেলে দেখলেন, ছেলে পানি গ্লাস হাতে নিয়ে দাড়িয়ে আছে।

হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (র) এর মা বিচলিত হয়ে বললেন, এই ঠাণ্ডায় সারা রাত ধরে তুমি অত কষ্ট করতে গেলে কেন বাবা! পানির গ্লাসটা টেবিলে রেখে দিলেই তো পারতে। হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (র) বললেন, মা গো, আপনার পিপাসার কথা মননপ করে আর ঘুমাতে পারি। পুত্রের কথা শুনে হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (র) মায়ের চোখ বেয়ে আনন্দের জল গড়িয়ে পড়লো।

আবার অন্য আরেক দিনের ঘটনা, হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (র) এর মায়ে ঘরে শুয়ে আছে। বাইরে থেকে ঠাণ্ডা বাতাস আসছে এজন্য ছেলেকে দরজার একটি পাল্লা বন্ধ করতে বললেন।

কিন্তু হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (র) ঘরে এসে দেখলেন তার মা ঘুমিয়ে পড়েছে।

ঘরে দরজায় ছিল তিনটি পাল্লা, এখন তিনি কোন একটি পাল্লা বন্ধ করবেন?

মা ঘুমিয়ে গিয়েছে এখনতো তাকে ডাকলে ঘুমের ব্যাঘাত হবে। এজন্য হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (র) সারা রাত ঘরের একটি পাল্লা বন্ধ রাখে তো অপর দুটি খোলা রাখে আবার কিছুক্ষণ পর আরেক টি পাল্লা বন্ধ করে তো অপর দুটি খোলা রাখে।

এভাবে সারা রাত দরজার পাশে দাড়িয়ে পাল্লা খোলা-বন্ধ করতে থাকে। মা ঘুম থেকে উঠে দেখে ছেলের কাণ্ড। আবারও পুত্রের গর্ভে মায়ের চোখ বেয়ে আনন্দের জল গড়িয়ে পড়লো।

হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (র) থেকে শিক্ষাঃ

বর্তমানে আমরা অনেক উন্নত জীবন-জাপন করছি। যে জন্য অনেকের কাছে বৃদ্ধ পিতা-মাতা বোঝা সরূপ। তাদের ঠিকানা হয় বৃদ্ধাশ্রম! কেননা পিতা-মাতা যে আমাদের মত স্টাইলে চলতে পারে না! তাদের জন্য আমার ক্যারিয়ার উন্নতি হবে না!

আমরা হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (র) জীবনীতে দেখতে পাই, তার মায়ের প্রতি ভালোবাসা। আর এই ভালোবাসার জন্য আজ তিঁনি হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (র) হতে পেরেছেন।

চলো পাল্টাই

আমরা পৃথিবীতে যত সফল ব্যক্তির জীবনী নিয়ে রিসার্চ করি না কেন তাদের জীবনীতে দেখতে পাবো আল্লাহু পরে তারা পিতামাতা স্থান দিয়ে ছিলো।

হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (র) যেভাবে তার মাকে ভালোবাসেন সেক্ষেত্রে আমরা কতটুকু মার্কস পেতে পারি?

পিতামাতার দোয়া বা আআশীর্বাদ ছাড়া কেউ জীবনে উন্নতির শিখরে পৌঁছতে পারে না।আমরা চলো নিজেকে পাল্টাই বৃদ্ধাশ্রমকে মুছে ফেলি পিতামাতাকে ভালোবাসি।


1 Comment

White Label SEO

January 24, 2020 at 1:15 pm

Awesome post! Keep up the great work! 🙂

Leave a Reply